২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে ব্রিটিশ নির্মাণ খাত। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ১২ মাস খাতটির কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে। বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর এটিই যুক্তরাজ্যের নির্মাণ খাতে টানা পতনের দীর্ঘতম রেকর্ড। দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক শিল্প জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল/সিআইপিএসের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) অনুযায়ী, গত মাসে যুক্তরাজ্যের নির্মাণ খাতের সূচক ছিল ৪০ দশমিক ১। নভেম্বরে এটি ছিল ৩৯ দশমিক ৪। সাধারণত ৫০-এর নিচে পিএমআই থাকার অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট খাতের সংকোচন বা অবনতি। অর্থনীতিবিদরা সূচকটি কিছুটা উন্নতির পূর্বাভাস দিলেও বাস্তব চিত্র এখনো বেশ হতাশাজনক।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের আবাসন খাত সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছে। এ খাতের পিএমআই সূচক কমে নেমে এসেছে ৩৩ দশমিক ৫-এ। ২০২০ সালে কভিড-মহামারীর কারণে দেশজুড়ে লকডাউন শুরুর পর এটিই সর্বনিম্ন সূচক।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক টিম মুর বলেন, ‘ব্রিটিশ নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলো ডিসেম্বরে কঠিন ব্যবসায়িক পরিস্থিতি ও কাজের চাপ কমার কথা জানিয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানই এর জন্য দুর্বল চাহিদা ও গ্রাহক আস্থার অভাবকে দায়ী করেছে।’
ক্ষমতাসীন লেবার সরকার আগামী পাঁচ বছর ইংল্যান্ডে ১৫ লাখ নতুন বাড়ি তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে আবাসন নির্মাতারা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের এ উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া অসম্ভব। যদিও আবাসনবিষয়ক মন্ত্রী স্টিভ রিড জানিয়েছেন, লক্ষ্য পূরণে আবাসন নির্মাণে বড় ধরনের গতি আনা প্রয়োজন।
প্যানথিয়ন ম্যাক্রো ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ এলিয়ট জর্ডান-ডোক বলেন, ‘আগামী মাসগুলোয় ব্রিটিশ নির্মাণ খাতের পিএমআই সূচক নিম্নমুখী থাকতে পারে। চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভসের বাজেটে বিনিয়োগের চেয়ে জনকল্যাণমূলক ব্যয়কে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন ম্যানশন ট্যাক্স প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত আবাসন বাজারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। ফলে ২০২৬ সালেও এ খাতে প্রবৃদ্ধি কেবল নামমাত্র হতে পারে।
তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও কিছু ইতিবাচক দিক দেখা গেছে। ঋণ বাবদ সুদহার কমার সম্ভাবনা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমে আসায় ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। জরিপে অংশ নেয়া ৩৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান আগামী এক বছরে প্রবৃদ্ধির আশা করছে। অবকাঠামো খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রথমবার বাড়ি ক্রেতাদের আগ্রহ এ খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।